RG কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই সরব হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে বিন্দুমাত্র পিছুপা হননি অভিনেত্রী তনিমা সেন। সম্প্রতি তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে, আর সেখানেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন তনিমা। তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেবিষয়টিই ভিডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
ভিডিয়োতে তনিমা সেনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘একটু আগে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে আমার এখনও গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, হাঁপ ধরে যাচ্ছে। আমি গিয়েছিলাম অভয়ার বাড়িতে, সেখানে ২৫-৩০জনের মতো ভিড় ছিল। বেশি ভিড় ছিল না। অভয়ার মা, ছিলেন, বাবা ছিলেন। আমি সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই সকলে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমি অভয়ার মায়ের পিঠে হাত দিতেই ভদ্রমহিলা আমার বুকের উপর পড়ে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন। স্বাভাবিকভাবেই আমার বিভৎস কষ্ট হল। আমিও চুপ করে ওনাকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে বললাম, আমি আপনাদের কিছু কথা বলতে চাই…। এদিকে আমি যে ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম, সে ৪০ ঊর্দ্ধ একজন। আমি ওকে ভিডিয়ো করতে বললাম। তখন কয়েকজন বলল, ভিডিয়ো করার এখানে নিয়ম নেই। আমি বললাম, আমি ভিডিয়ো করতে চাইছি, কারণ কথাগুলো তুলে ধরতে চাইছি। তখন বাকি সক্কলে বলল, হ্যাঁ, হ্য়াঁ, আপনি ভিডিয়ো করুন, আপনার অন্যান্য ভিডিয়োগুলোও দেখেছি, আমরা সকলেই বলব।’
আরও পড়ুন-ক্ষতির মুখে! ধর্মা প্রোডাকশন কিনে নিচ্ছে রিলায়েন্স? তবু করণ জোহর বলছেন…
তনিমা সেন বলেন, ‘এদিকে যখন ভিডিয়ো করা হচ্ছে, আরও অনেকেই করছেন। আমি বললাম, আমি এতদিন আসতে সাহস পাইনি, ওনার মুখের দিতে তাকাতে পারব না তাই। এখানে অনেকেই আছেন। পুলিশ ভাইয়েরাও আছেন। বললাম, আসুন আমরা একটু শক্ত হই, সকলেই ঝাঁপিয়ে পড়ি। কারণ আমরা সকলেই বুঝতে পারছি, একটা বিশাল নোংরামো ঢাকা দেওয়ার জন্য, এটা কুৎসিত ব্যপার ঢাকা দেওয়ার জন্য, ভদ্রমহিলা (মাননীয়া বলতেও এখন আর ভালো লাগে না) এই সমস্ত করছেন। উনি কিন্তু নিরো-(রোমান সম্রাট নিরো) থেকেও অধম। আমি ইতিহাসে অতটা ভালো নই। উনি ৩৬-৩৭ (প্রসঙ্গত, এটা ৫৪ থেকে ৬৮ সময়কালে হবে) সালে এসেছিলেন মনে হয়। তিনি এত শয়তান ছিলেন। তবে শেষকালে তাঁকেও মুখে হাত দিয়ে কাঁদতে হয়েছিল। উনি হয়ত সেই সুযোগটাও পাবেন না।’
তনিমা বলেন, ‘আমি কথা বললাম, সকলের সঙ্গে, পুলিশের সঙ্গেও, ওরাও আন্তরিক ছিল। এইবার যখন আমরা বের হয়ে এলাম। গাড়িতে উঠেছি, তারপর ছেলেটিকে বললাম, দাও এবার ভিডিয়োটা আমায় ট্রান্সফার করো’। এরপর ছেলেটিকে বললাম, ‘দিদি নেই তো।’ আমি বললাম, ‘নেই মানে?’ ও তখন বলল, ‘যে লোকটি বলছিল, ছবি তুলবেন না ও এসে বলল, দেখি দেখি কেমন হয়েছে, আমিও ট্রান্সফার করে নি। বলেই মুহূর্তের মধ্যে ডিলিট করে দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন-'তোমার মায়ের সঙ্গে শুতে চাই', এমনই বলেছিলেন র্যাপার স্বামী, বিস্ফোরক স্ত্রী
এরপরই তনিমা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমরা কোন রাজত্বে বাস করছি একবার ভাবুন, অতগুলো লোকের মাঝে একদম ফল্গু নদীর মতো মিশে মিশে রয়েছে, আমরা ভাবতেই পারলাম না। এটা একটা অভিজ্ঞতা, এতদূর গেলাম, এতগুলো কথা বললাম, প্রত্যেককে জানানোর জন্য। সেখানে গাড়িতে উঠে শুনলাম, নেই। নেই তো নেইই। ওখানে আরও অনেকজন ছিলেন, বাংলাদেশের একজন ভদ্রলোক বললেন, আমি এটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেব, এইরকম অনেকে অনেককিছু বললেন। তেমনই আমিও আপনাদের বলছি।'
সবশেষে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, 'আপনারা ভাবুন, আমরা কোথায় বাস করছি! কাকে বিশ্বাস করব? এইরকমভাবে ভাবে যদি ওরা ছড়িয়ে থাকে, তাহলে কাকে বিশ্বাস করবেন? আমরা সত্যিই মৃত্যুর মুখে রয়েছি। এবার পিঠে আমাদের দেওয়াল ঠেকে গেছে। আমাদের এবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ভদ্রমহিলাকে আমি শান্তনা দিতে পারিনি, শুধু ওঁর মুখ বুকে চেপে ধরেছিলাম। বলেছি, সেদিন আপনিও শান্তি পাবেন, যেদিন পুরো বিষয়টি ধরা পড়বে।’