দুই মহিলার ভোটের কার্ড আছে। কিন্তু তাতে দেখা যাচ্ছে একই স্বামীর নাম। এখানেই ঘটে সন্দেহের সূত্রপাত। তারপর বিস্তারিত খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে মহিলাদের ওই এলাকাতেই কোনও অস্তিত্ব নেই। ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে যখন রাজ্য–রাজনীতি তোলপাড় তখন এমন কাণ্ড দেখা দিল বাঁকুড়ায়। দলের নির্দেশে ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মিলিয়ে দেখছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। এবার একটি বুথেই এমন ৬ জন ভুয়ো ভোটারের খোঁজ পেল তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর বুথের এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এদিকে এই ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে গিয়ে আজ, বুধবার কোথাও তালিকায় দুই মহিলা ভোটারের একজন স্বামী অথবা কোথাও কারও নাম তালিকায় থাকলেও বাস্তবে তাঁর কোনও অস্তিত্ব নেই এমন সব ঘটনা সামনে এসেছে বলে অভিযোগ। বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর বুথে একের পক এক এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার শ্যামসুন্দরপুর বুথে যে ছবি উঠে এল তাতে চক্ষু চড়কগাছ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের। এই বুথে ১১২১ জন ভোটারের যে তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ৬ জনের নাম এবং তথ্য সন্দেহজনক। তাঁরা সকলেই ভুয়ো ভোটার বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের।
আরও পড়ুন: ‘আমার কাউকে দরকার পড়ে না, নিজের ক্ষমতায় রাজনীতি করি’, কড়া বাক্যবাণ দিলীপের
অন্যদিকে এই ভূতুড়ে ভোটার প্রথম সামনে নিয়ে আসেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এই কাজ করেছে নির্বাচন কমিশনকে হাত করে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে নয়াদিল্লিতে চাপ বাড়াতে শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নির্বাচন কমিশন মেনে নেয় একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার আছে। তবে তা রুখতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর জারি করা হবে। তবে তা কীসের ভিত্তিতে হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন বিরোধী সাংসদরা। এবার আগামী ২৮ মার্চ নির্বাচন কমিশন এপিক কার্ড ইস্যু নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে।